উপভোগের মরশুম। কেক, পিঠেপুলি–সহ আরও কত উৎসবের আয়োজন। তবে শীতের রুক্ষ ও শুষ্ক আবহাওয়া ত্বকের কিছু সমস্যার সৃষ্টি করে। একটু সচেতনতা আর যত্নই পারে সেই সব সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে ত্বককে প্রাণবন্ত রাখতে

শীতে চাই ত্বকের বাড়তি যত্ন
প্রীতিময় রায়বর্মন

শীতে ত্বকের সমস্যা
✤ শীতে ত্বকের প্রধান সমস্যা‌ শুষ্কতা। ত্বক স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। 
✤ ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের একজিমা দেখা দিতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম জেরোটিক একজিমা। এ ছাড়া অ্যাটোপিক ডার্মাটাইসিস, পায়ে হাইপারকেরাটোসিস একজিমা ইত্যাদি এই সময় বাড়ে। 

✤ শীতে শরীরের যে কোনও স্থানে দেখা দিতে পারে সোরিয়াসিস। 
✤ শীতের আরেক সমস্যা হাত–পা ফাটা। অনেকের ক্ষেত্রে পা এতটাই ফাটে যে চলাফেরায় সমস্যা হয়। 
✤ এ ছাড়াও জন্মগত ত্বকের রোগ ইকথিয়োসিস (ত্বক খসখসে ও দেখতে হয় মাছের আঁশের মতো) থাকলে তার সমস্যাও শীতে বাড়ে।

চুলের সমস্যা
চুলে সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাকে আমরা জানি খুশকি বলে। এই সেবোরিক ডার্মাটাইটিস অনেক সময় মুখেও হতে পারে। মুখে ছোট ছোট সাদা স্পটের মতো হয় এবং চুলকায়। 

ত্বকের সমস্যা সমাধানে
✓ নিয়মিত তেল বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। 
✓ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ত্বকের শুষ্কতা কাটাতে কার্যকরি নারকেল তেল। সরষের তেল ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ সরষের তেল থেকে ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
✓ বডি অয়েল বা লোশনও ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে নিরাপদ সাদা পেট্রোলিয়াম জেলি। 

✓ বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না। মৃদু গ্লিসারিন, ময়েশ্চারাইজার সাবান ব্যবহার করুন।
✓ অনেক সময় উলের জামা–কাপড় থেকে ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উলের পোশাক পরার আগে ভালো করে রোদে দিয়ে তবেই তা ব্যবহার করুন এবং সুতির পোশাক পরে তার ওপর উলের পোশাক পরুন। সিন্থেটিক জামা–কাপড় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। 

✓ বছরের অন্য ঋতুর তুলনায় শীতে আমরা অনেকটা সময় রোদে কাটাই। কারণ এ সময় রোদ উপভোগ্য। ফলে যাঁদের ত্বকে রোদজনিত সমস্যা আছে, তাঁরা রোদে বেরনোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং যাঁদের নেই তাঁরাও। 
✓ ত্বকের কোনও সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

চুলের সমস্যা সমাধানে
খুশকির সমস্যা সমাধানে কিছু মেডিক্যাল শ্যাম্পু আছে। যেগুলো ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহার করুন।

ত্বক ভালো রাখার ডায়েট
✑ শীতে ত্বককে প্রাণবন্ত রাখতে পরিমিত পরিমাণ জল পান জরুরি। জল ছাড়াও ডাবের জল, ফলের রস, স্যুপ খান। 
✑ বেশি করে মরশুমি ফল, শাকসবজি খান। যেমন কমলালেবু, আপেল, গাজর, পালংশাক ইত্যাদি। শাকসবজি, ফলমূলে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টি–অক্সিড্যান্ট শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি হজমেও সহায়তা করে। টাটকা ফল ও সবজিতে থাকা বায়োটিন ত্বক ও চুল ভালো রাখে। প্রসেসড বা ফ্রোজেন ফুডের বদলে ন্যাচারাল ফুড খান।

✑ ভালো ত্বকের জন্য প্রয়োজন পরিমিত পরিমাণ ফ্যাটি অ্যাসিড। যা রয়েছে বাদাম, মাছ ইত্যাদিতে।
✑ শীত মানেই মুখোরোচক খাওয়াদাওয়া। বেশি খাওয়াদাওয়া মানেই শরীরে বেশি পরিমাণ ক্যালরির অনুপ্রবেশ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ক্যালরি বার্ন করতে গ্রিন টি কার্যকরি। তাই নিয়মিত গ্রিন টি খেতে পারেন। 
✑ এড়িয়ে চলুন অতিরিক্ত ভাজাপোড়া। 

একটু সচেতনতা আর যত্ন, তাতেই ত্বক থাকবে হাসিখুশি। 

সব ছবি:‌ আন্তর্জাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *