ছোটবেলায় লম্বা হওয়ার জন্য কোনও কিছু ধরে ঝোলা বা সাইকেল চালানোর নানা পরামর্শ ছুটে আসে চারদিক থেকে। সত্যিই কি ঝুললে বা সাইকেল চালালে লম্বা হওয়া যায়? জেনে নিই এ ব্যাপারে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সাইকেল চালালে বা ঝুললেই লম্বা?
প্রীতিময় রায়বর্মন
সাইকেল চালানো বা ঝোলা এগুলো শরীরচর্চার একটা অংশ। নিয়মিত সাইক্লিংয়ের অনেক উপকার। শরীরের নিচের অংশের পেশি ও হাড়ের খুব ভালো ব্যায়াম সাইক্লিং। এতে শরীরের এই অংশের বৃদ্ধি বা বিকাশ কিছুটা হলেও, সাইকেল চালালে বা ঝুললেই যে লম্বা হওয়া যাবে এমনটা কিন্তু নয়। লম্বা বা বেটে এর পেছনে জিনগত কারণও থাকে। আর শরীরচর্চার পাশাপাশি সঠিক বিকাশের জন্য দরকার পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস।
সাইকেল চালানো যেহেতু স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি, তাই ৪–৫ বছর বয়সেই শিশুকে সাইকেল চালানো শেখানো যায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট করে সাইকেল চালানোর অভ্যাস গড়ে তুলতেই পারেন। আর মিনিট পাঁচেক কোনও কিছু ধরে শিশু ঝুলতেও পারে। সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার সেটা হল সমবয়সীদের সঙ্গে শিশুকে খেলাধুলো বা দৌড়ঝাঁপের সুযোগ করে দেওয়া। যাতে সে মনের আনন্দে কিছুটা সময় কাটাতে পারে। চাইলে মা–বাবা মর্নিং বা ইভিনিং ওয়াকেও শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। এগুলো সবই দৈনন্দিন শরীরচর্চার একটা অংশ। তবে সবেরই একটা নির্দিষ্ট সময় থাকা দরকার। কোনওটাই মাত্রাতিরিক্ত নয়।
শরীরচর্চার পাশাপাশি শিশুর বিকাশে দরকার পুষ্টিকর খাবারদাবার। যেমন দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, মরশুমি শাকসবজি, ফল ইত্যাদি। সবই পরিমিত পরিমাণে খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে হবে শিশুকে। আর খেয়াল রাখতে হবে শিশু যাতে মোবাইল বা অন্য কোনও ডিজিটাল গ্যাজেটের প্রতি আসক্ত না হয়। ডিজাটাল আসক্তি বাড়লে তার প্রভাব কিন্তু খাওয়াদাওয়া থেকে শরীরচর্চা সবেতেই পড়ে।
শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওদের ওপর জোর করে কোনও কিছু চাপিয়ে দেবেন না। শিশুকে আলাদা না খাইয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খেলে খাবারের প্রতি ওর উৎসাহ বাড়বে। পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে না চাইলে বিকল্প হিসেবে চিপস বা ফাস্ট ফুডে অভ্যস্ত না করে খাবারের স্বাস্থ্যকর দিকগুলো সম্পর্কে ওকে ভালো করে বোঝান। পড়াশোনা বা অন্য কোনও অজুহাতে শিশুদের খেলাধুলো বা শরীরচর্চা যাতে বন্ধ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলো ইত্যাদি শিশুর শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশকেও তরাণ্বিত করে। শুধুমাত্র ঝুললেই বা সাইকেল চালালেই যে কেউ লম্বা হয়ে যাবে, এমনটা নয়। এগুলো শরীরচর্চার একটা দিক মাত্র। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কসরত উভয় উভয়ের পরিপূরক।
সব ছবি: আন্তর্জাল
(নিবন্ধটি কোনও ডাক্তারী পরামর্শ নয়
শুধুমাত্র সচেতনতার জন্য)
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *
Comments