দেবভূমি
প্রীতিময় রায়বর্মন

পশ্চিম হিমালয়ের পার্বত্য রাজ্য হিমাচল প্রদেশ। প্রকৃতি এখানে উজাড় করে দিয়েছে তার অপরূপ সৌন্দর্য। অনেকের কাছেই এ রাজ্য ‘দেবভূমি’। 
রুটম্যাপ: সিমলা–চেইল–কসৌলি–নারকান্দা–মানালি–নাগ্গর–মণিকরণ

সিমলা
হিল অফ কুইন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,১০০–২,৩০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত শৈলশহর। হিমাচলের রাজধানী। ছিল ব্রিটিশদের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী। শীতে তাপমাত্রা নেমে যায় হিমাঙ্কের নীচে। গরমে তাপমাত্রা থাকে ১৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের আশপাশে। চারদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মেলা আর কোথাও বা পাহাড়ের গা বেয়ে নেমেছে পাহাড়ি গাছের দল। আবহাওয়া আর পরিবেশ এতটাই চমৎকার, যেন ‘শ্যামস্নিগ্ধ প্রকৃতির মনোরমতা’‌।

দি ম্যাল: সিমলায় পা দেওয়ার পর মনটা কেমন যেন ছটফট করে, কখন যাব ম্যালে। পর্যটদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এই ম্যাল রোড। রেস্তোরাঁ, দোকানপাটে ভর্তি ম্যাল যেমন শহরের প্রাণকেন্দ্র, তেমনই বাণিজ্যকেন্দ্রও বটে। সিমলা বাসস্ট্যান্ড থেকে মিনিট ১৫ হাঁটাপথে ম্যালে পৌঁছানো যায়।
দি রিজ: শহরের ফুসফুস। এখানকার বিশাল উন্মুক্ত জায়গা থেকে চারদিকে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য এককথায় অনবদ্য।
জাখু পাহাড় ও জাখু মন্দির: শহর থেকে দূরত্ব ২ কিমি। সিমলার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জাখু। পাহাড়ের মাথায় জাখু মন্দির। অধিষ্ট দেবতা হনুমান। রামায়ণে লক্ষ্মণকে বাঁচানোর জন্য সঞ্জীবনীর খোঁজে বেরিয়ে হনুমানের সেই পাহাড় তুলে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে নাকি জড়িয়ে আছে এই পাহাড়ের নাম!

ভ্যাইসরিগেল লজ: ভাইসরয় লর্ড ডারফিনের সরকারি ভবন। বর্তমানে সেটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্স স্টাডিজ। লজটিতে শুধুমাত্র ইংরেজিয়ানারই ছাপ নেই, এখান থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের দৃশ্যও নজরকাড়া।
সামার হিল: ওক, রডোডেনড্রন আর নাম–না–জানা পাহাড়ি গাছের মাঝে শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে নিরিবিলি সামার হিল। সিমলা সফরের সময় মহাত্মা গান্ধী এখানে রাজকুমারী অমৃত কৌরের বাড়িতে ছিলেন। এখানেই হিমাচল প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্রাইস্ট চার্চ: উত্তর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম গির্জা। ১৮৪৪–৫৭–এর মধ্যে গড়ে ওঠে এই গির্জা। এলিজাবেথীয় স্থাপত্যরীতির অন্যতম নিদর্শন এই গির্জা।
সেন্ট মাইকেল ক্যাথিড্রাল: এখানকার প্রথম ক্যাথলিক গির্জা। ১৮৫০ সালে তৈরি। এখানে এলে নজর কাড়ে ইতালি থেকে আনা মার্বেলের বেদিগুলি।
গেইটি থিয়েটার: বিনোদনের জন্য ব্রিটিশরা নিয়ো–গথিক শৈলীতে তৈরি করেন এই থিয়েটার।
গর্টন ক্যাসেল: ১৯০৪ সালে ব্রিটিশদের তৈরি এই বিশাল বাড়িতে আজ অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের অফিস।

তত্তপানি: সালফিউরাস উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য বিখ্যাত। এ ছাড়াও এখানে শতদ্রু নদীতে রিভার র‌্যাফটিংয়েরও ব্যবস্থা আছে।
সিমলা কালীবাড়ি: বিধানসভার কাছেই সিমলা কালীবাড়ি। এখানকার কালীমূর্তি জয়পুর থেকে আনা। ডান দিকে দেবী মঙ্গলচণ্ডী ও বাঁদিকে দেবী শ্যামলা। দেবী শ্যামলার নাম থেকেই ‘‌সিমলা’‌ নামকরণটি হয়েছে।
লক্কর বাজার:‌ ম্যাল থেকে স্ক্যান্ডাল পয়েন্ট হয়ে ঘুরে আসতে পারেন লক্কর বাজার থেকে।
নালধেরা: সিমলা থেকে ২২ কিমি দূরে ২,০৪৪ মিটার উচ্চতায় পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য। এখানে রয়েছে দেশের অন্যতন প্রাচীন গলফ কোর্স। যেটি তৈরি হয়েছিল লর্ড কার্জনের পরামর্শে। এই জায়গাটা লর্ড কার্জন তাঁর মেয়ে আলেকজান্দ্রাকে দিয়েছিলেন। আলেকজান্দ্রার দ্বিতীয় নাম ছিল নালধেরা।
চাদউইক জলপ্রপাত: সামার হিল থেকে ২ কিমি দূরে চাদউইক জলপ্রপাত।

সারাহান: ১,৯৫০ মিটার উঁচুতে কিন্নরের প্রবেশপথ সারাহান। শ্রীখণ্ড রেঞ্জের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে এখানে আসতেই হবে। দেখবেন ভীমকালী মন্দির।
আরও ঘুরে নেওয়া যায় দি গ্লেন, স্টেট মিউজিয়াম, আনানডেল রেসকোর্স, সিমলা জল–অববাহিকা অভয়ারণ্য, প্রসপেক্ট হিল ও পাহাড়ের মাথায় কামনাদেবীর মন্দির, হাটকোটি, ফাগু ইত্যাদি। 
যাওয়া: হাওড়া থেকে ১২৩১১ হাওড়া–দিল্লি–কালকা মেলে দিল্লি হয়ে কালকা পৌঁছে, সেখান থেকে কালকা–সিমলা ন্যারোগেজ ট্রেনে সিমলা। 

থাকা: হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় গেস্ট হাউস ও হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে। লগ করুন: hptdc.in। এ ছাড়াও ভালো মানের বেসরকারি হোটেল ও হোম স্টে–র ব্যবস্থা আছে। রয়েছে সিমলা কালীবাড়ি। 
উৎসব: সিমলায় বিখ্যাত সামার ফেষ্টিভ্যাল। প্রতি বছর মে–জুন মাসে আন্তর্জাতিক এই উৎসবের আযোজন করা হয়। এ ছাড়াও রেডক্রস ফেয়ার ও নিউ ইয়ারও খুব ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয় এখানে।
সিমলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফোন নম্বর: এসটিডি কোড: ০১৭৭; ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার, সিমলা:‌ ০১৭৭–২৬৫৪৫৯৮, ২৮৩২৪৯৮

চেইল
পাতিয়ালার মহারাজা ভূপেন্দ্র সিং যখন সিমলা থেকে বিতাড়িত হন, তখন তিনি পাহাড়ের মাথায় খুঁজে পান ছোট্ট গ্রাম চেইলকে এবং ঠিক করেন এখানেই তিনি তৈরি করবেন তাঁর গ্রীষ্মকালীন আবাস। চারদিকে দেবদারুর ঘন জঙ্গল। জায়গাটি সিমলা থেকে সামান্য উঁচুতে (২,২২৬ মিটার) অবস্থিত হওয়ায় এখান থেকে সিমলাকে খুব সুন্দর দেখায়। আজ তাঁর সব সৃষ্টিই গবেষণার বিষয়। আজও প্রাসাদে সুসজ্জিত আসবাসপত্র। কটেজ আর কুঁড়েঘরগুলি আজও যেন সেই একইরকম সুন্দর! ঘন জঙ্গল, ফলের বাগানে ঘেরা এই অঞ্চলটি যেন ‘‌লাভারস হিল’‌। অভিজাত লন, ব্যাটমিন্টন ও টেনিস কোর্ট, বিলিয়ার্ড, চিলড্রেন পার্ক— কী নেই সেখানে! যাঁরা কোলাহল থেকে বেরিয়ে একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান তাঁদের কাছে চেইল একদম আদর্শ জায়গা। মাছ ধরা বা ট্রেকিংয়ের ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ক্রিকেট ও পোলোর মাঠও এখানেই।

সিধ বাবা কা মন্দির: মহারাজা ভূপেন্দ্র সিং নির্মিত মন্দির। কথিত আছে, সিধ অর্থাৎ একজন সাত্ত্বিক ব্যক্তি মহারাজাকে স্বপ্নে এখানে তাঁর মন্দির তৈরির কথা বলেছিলেন। 
ক্রিকেট মাঠ: ১৮৯৩ সালে ৪৪৪ মিটার উঁচুতে পাহাড়ের মাথায় তৈরি হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ক্রিকেট আর পোলোর মাঠ সত্যিই অনবদ্য।
ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি: হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসা যায় ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি থেকেও।
কুফরি: জঙ্গল ঘেরা ছোট গ্রাম কুফরি। এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা নেচার পার্কটি। এখানে রয়েছে ট্রেকিংয়ের ব্যবস্থাও। 
সাধুপুল:‌ কান্দাঘাট ও চেইলের মাঝে অবস্থিত এই গ্রামটি মূলত একটি পিকনিক স্পট।
ট্রেকিং: অনেকগুলো ট্রেকপথ রয়েছে চেইলে। চোরপাহাড় থেকে সিমলা পর্যন্ত টেকপথটি সবচেয়ে বড়। অনেকেরই মাছ ধরার নেশা থাকে। ২৯ কিমি দূরে গিরি নদীতে মাছ ধরার ব্যবস্থাও রয়েছে। 
যাওয়া: সড়কপথে চেইল যাওয়ার বেশ কতকগুলি রাস্তা আছে। সিমলা থেকে কুফরি (৪৫ কিমি) বা কান্দাঘাট (৬১ কিমি) হয়ে। কালকা থেকে দূরত্ব ৮৬ কিমি। সিমলা ও দিল্লি থেকে নিয়মিত বাস যাচ্ছে চেইল। 

কসৌলি
এই হিল স্টেশনে এলে মনে হতেই পারে যেন ১৯ শতকে ফিরে এলাম। ১,৯৫১ মিটার উচ্চতায় অপূর্ব সৌন্দর্যে ঘেরা কসৌলি। এখান থেকে সিমলার সৌন্দর্য সত্যিই ক্যামেরাবন্দী করে রাখার মতো। পাইন–ওকের জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটলে আজও সেই ঔপনিবেশিকতার গন্ধ পাওয়া যায়।

মাঙ্কি পয়েন্ট: ঋষি মন–কি নামে একজন সাধক এখানে উপাসনা করতেন। তাঁর অধিষ্ঠ দেবতা ছিলেন ভগবান হনুমান। পরবর্তীকালে পাহাড়চূড়ার সেই ছোট্ট হনুমান মন্দিরের নামে হয় এই পাহাড়ের নামকরণ। সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় সেনাবাহিনীর একটু কড়াকড়ি ও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে এখানে। 
বাবা বালকনাথ মন্দির: পাহাড়ের মাথায় প্রসিদ্ধ সিধ বাবা বালকনাথ মন্দির।
শিরডি সাঁইবাবা মন্দির: ১৯৮৯ সালে তৈরি হয় সাঁইবাবার এই মন্দির। সাঁইবাবার মূর্তিটি নির্মিত হয় জয়পুরে। এখানকার মন্দিরের জ্বলন্ত অগ্নিশিখা সাঁই বাবার ঐশ্বরিক ক্ষমতা বলে মনে করা হয়।
লরেন্স স্কুল: পাহাড়ের মাথায় খুবই জনপ্রিয় লরেন্স স্কুল। হেনরি লরেন্স তৈরি করেন এই স্কুল। তিনিই কসৌলিতে প্রথম কটেজ তৈরি করেন ১৮৪৮ সালে।
ঘুরে নেওয়া যায় এখানকার গির্জাগুলো থেকে। ব্যাপ্টিস্ট গির্জাগুলো আজও বহন করে চলেছে সেই ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতির নকশা। এ ছাড়াও এখানকার ১৯০৬ সালে তৈরি সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্ট্রিটিউট, দেওয়াল পেনটিংয়ের জন্য বিখ্যাত কুঠার (৪৬ কিমি) ইত্যাদিও দেখার মতো। 
যাওয়া: দিল্লি, কালকা (৩৭ কিমি) ও সিমলা থেকে ট্যাক্সি ও বাস যাচ্ছে কসৌলি।

নারকান্দা
বলা হয় ‘আপেলের দেশ’‌ হিমাচলে প্রবেশের প্রবেশপথ নারকান্দা। ভারত–তিব্বত রোডের পাশে ২,৭০৮ মিটার উঁচুতে নারকান্দা। এখান থেকে বরফাবৃত পাহাড়ের দৃশ্য চিরকাল মনে রাখার মতো। পাহাড়ের মাথায় যাঁরা নির্জনতা পছন্দ করেন তাঁদের জন্য প্রিয় জায়গা। বরফে মোড়া পাহাড়ের পাশাপাশি এখান থেকে গাছ ভর্তি আপেলের বাগানগুলোর দৃশ্য সত্যিই নজরকাড়া। শীতকালীন বিভিন্ন খেলা, যেমন স্কিইংয়ের জন্য বিখ্যাত নারকান্দা। হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজমের উদ্যোগে এখানে স্কিইংয়ের কোর্সেরও ব্যবস্থা আছে।

হাতু পিক:‌ নারকান্দা থেকে দূরত্ব ৮ কিমি। বিভিন্ন পাহাড়ি গাছ ও পাইনে ঘেরা এই পাহাড়। পাহাড়ের মাথায় হাতু মাতার মন্দির। হিমালয়ান রেঞ্জের সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে হলে এখানে আসতেই হবে।
কাচেরি: নারকান্দা থেকে দূরত্ব ৭ কিমি। এখানকার প্রধান আকর্ষণ মহামায়া মন্দির। 

কোটগড়: আপেলের বাগানের জন্য বিখ্যাত। ১৯১৪ সালে হিমাচলের এখানেই প্রথম ফলের বাগান গড়ে ওঠেছিল। জাল্লোরি পাস: নারকান্দা থেকে দূরত্ব ৯০ কিমি। এখান থেকে কুলু ভ্যালির নৈসর্গ সত্যিই উপভোগ্য। হাতে সময় থাকলে জাল্লোরি পাস থেকে ৩০ মিনিটের হাঁটাপথে ঘুরে আসা যায় গভীর জঙ্গলের মাঝে সারোলসার লেক থেকে।
যাওয়া: সিমলা থেকে দূরত্ব ৬৫ কিমি। সিমলা থেকে যাওয়ার জন্য বাস ও ট্যাক্সির ব্যবস্থা রয়েছে।

মানালি
অতীতে নাম ছিল মানালিসু। এই জায়গাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক কাহিনী। কথিত আছে আদি পিতা মানুষের স্রষ্টা মনু বাস করতেন বিপাশার তীরে। ২,০৫০ মিটার উচ্চতায় পাইন–দেবদারু আর বরফে ঢাকা পাহাড়ের শহর মানালি। ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি বরফের চাদরে মোড়া থাকে মানালি।

হিড়িম্বাদেবীর মন্দির: ৫৫৩ সালে তৈরি ভারতের অন্যতম প্রাচীন মন্দির। পাশেই ভীম ও হিড়িম্বাপুত্র ঘটোৎকচের মন্দির। মন্দিরগুলির কারুকার্য নজরকাড়া।
জগৎসুখ: অতীতের কুলু উপত্যকার রাজধানী। মানালি থেকে বিয়াস পেরিয়ে দক্ষিণে ৬ কিমি দূরে জগৎসুখ। দেখবেন অষ্টম ও পঞ্চদশ শতকে দেবদারু কাঠের তৈরি গৌরীশঙ্কর মন্দির ও সন্ধ্যাদেবীর মন্দির। 

রোটাং পাস: সিমলা মানে যদি ম্যাল হয়, মানালি মানে রোটাং পাস। মানালি থেকে দূরত্ব ৫১ কিমি। পাহাড়ি গাছ আর শুধুই বরফ আর বরফ। এতটাই সুন্দর যে প্রথমবার গেলে শুধুই লেন্সবন্দী করার হিড়িক পড়ে যায়। যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার ভালবাসেন তাঁরা বারবার ছুটে আসেন এখানে। স্কিয়িং, প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বিখ্যাত রোটাং পাস। এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর রোটাং পাস খোলা থাকে। বর্ষার সময় রোটাং পাস বন্ধ থাকে। সারাদিনের কন্ডাক্টেড ট্যুরে রোটাং পাস ঘোরার ব্যবস্থা আছে।

সোলাং উপতাকা: মানালি থেকে ১৬ কিমি দূরে সোলাং উপত্যকা। সোলাং গ্রাম আর বিয়াস কুণ্ডর মাঝে এই উপত্যকা। হিমবাহ আর বরফশুভ্র পর্বতমালা দেখার জন্য আদর্শ। শীতে এখানে স্কিইংয়ের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়াও বাস স্ট্যান্ডের কাছেই তিব্বতীয় মনাস্ট্রি। দেখবেন ক্লাব হাউস। যেখানে রয়েছে কিছু পিকনিক স্পট। অটোরিকশায় ঘুরে আসা যায় উষ্ণকুণ্ড ও বশিষ্ঠ আশ্রম থেকে। এ ছাড়াও ঘুরে আসা যায় নেহরু কুণ্ড, মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, মনু মন্দির, হিমালয়ান ন্যাশনাল পার্ক, মানালি স্যাংচুয়ারি থেকে।

যাওয়া: সিমলা থেকে মানালি যাওয়ার জন্য ডিলাক্স এবং সাধারণ বাস আছে। সময় লাগে ১২–১৩ ঘণ্টার মতো। চাইলে দিল্লি থেকেও মালালি যেতে পারেন। দিল্লি থেকে বাসে মানালি যেতে সময় লাগে ১৮ ঘণ্টার মতো। 
থাকা: মানালিতে থাকার জন্য হিমাচল প্রদেশ পর্যটনের হোটেল রোটাং রয়েছে। এ ছাড়াও ভাল মানের বেসরকারি হোটেলও আছে। 
উৎসব: মানালি উইন্টার কার্নিভ্যাল। জানুয়ারি মাসের ২–৬ তারিখ অনুষ্ঠিত হয় এই কার্নিভ্যাল।
মানালির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর: এস টি ডি কোড: ১৯০২; ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার, মানালি: ০১৯০২-২৫২-১৭৫

নাগ্গর
জগৎসুখ থেকে ১১ কিমি দূরে নাগ্গর। একটা সময় কুলু উপত্যকার রাজধানী ছিল নাগ্গর।

নাগর দুর্গ বা ক্যাসেল: নাগ্গর মানেই কাঠের তৈরি নাগ্গর দুর্গ বা ক্যাসেল। যার একটা অংশে এখন হিমাচল ট্যুরিজমের হোটেল।
জগতিপাত মন্দির: পাহাড়ের মাথায় দুর্গের উঠোনে ছোট্ট মন্দির। যেখানে রয়েছে ‘জগৎ’‌ শিলা। মৌমাছিদের দ্বারা যেটা বশিষ্ট নিয়ে এসেছিলেন নিকটবর্তী স্থান থেকে। ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই স্থানে কুলুর দেবতারা নাকি মিলিত হন।
ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির: কাঠের উপর নজরকাড়া কারুকার্যপূর্ণ এই রূপালি প্যাগোডা। এখানে এলে সাক্ষ্মী থাকবেন এক বিরল স্থাপত্যশৈলির।

নিকোলাস বোয়েরিখ আর্ট গ্যালারি:‌ রাশিয়ার বিখ্যাত শিল্পী অধ্যাপক নিকোলাস রোয়েরিখ ১৯২৯ সালে যখন ভারতে আসেন তখন তিনি নাগ্গরকেই বেছে নেন তাঁর বাসস্থান হিসেবে। এখান থেকে উত্তর হিমালয়ের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যায় যখন তাতে এসে পড়ে সূর্যের রূপালি রশ্মি। নিকোলাসের ছেলে সোয়েৎস্লভও ছিলেন বিখ্যাত শিল্পী। এখন তাঁদের সেই বাড়িটাই আস্ত একটা চিত্র প্রশর্দনশালায় পরিণত হয়েছে। যেখানে রয়েছে তাঁদের আঁকা বেশ কিছু দুর্লভ ছবিও।
উরসবতী আর্ট সেন্টার:‌ রোয়েরিখ থেকে কিছুটা দূরে লোকশিল্পের নজরকাড়া সংগ্রহশালা।

গৌরীশঙ্কর মন্দির: অধিষ্ঠা দেবতা শিব। সে সময়কার চারু শিল্পকলার নিদর্শন আজও বহন করে চলেছে এই মন্দির।
ট্রেকিং:‌ এই উপত্যকায় রয়েছে ভিন্ন ট্রেকপথ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল চান্দেরখানি পাস থেকে মালানা ভিলেজ, জালোরি পাস থেকে সিমলা এবং দি পিন পার্বতী পাস থেকে সারাহান।
যাওয়া: কুলু থেকে দূরত্ব ২৬ কিমি ও মানালি থেকে দূরত্ব ২১ কিনি। মানালি থেকে কন্ডাক্টেড ট্যুরে নাগ্গর যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। মানালি থেকে কাতরেইন–কুলুর বাসে পাতলিখুন গিয়ে সেখান থেকে নদী পেরিয়ে হেঁটে বা অটোরিকশায় নাগ্গর যাওয়া যায়।
থাকা: হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজমের নায়ার ক্যাসেল। এ ছাড়াও বেসরকারি হোটেলও আছে।
এস টি ডি কোড: ০১৯০২

মণিকরণ
হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রস্থান। মন্দির, গুরদোয়ারার পাশাপাশি বিখ্যাত বিশ্বের উষ্ণতম প্রস্রবণের জন্য। অনেকেরই বিশ্বাস, এখানকার জলে স্নান করলে ত্বকের অসুখ থেকে মুক্তি মেলে। মণিকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হর–পার্বতীর নানা পৌরাণিক কাহিনী। রয়েছে নানকের গুরদোয়ারা ১,৭৩৭ মিটার উঁচুতে উত্তরে হরেন্দ্র পর্বত, পূর্বে ব্রহ্মমালা, পশ্চিমে বিষ্ণুকৃত ও দক্ষিণে পার্বতী গঙ্গা নিয়ে মণিকরণ। এখানকার মন্দিরগুলিতে অধিষ্ঠ দেবতা শ্রীকৃষ্ণ, রাম, হনুমান, বৈষ্ণোদেবী, ময়নাদেবী।

পুলগা: যাঁরা ট্রেকিং পছন্দ করেন তাঁদের খুব প্রিয় জায়গা। কাসোল থেকে পুলগা মোট ১৬ কিমি চ্যালেঞ্জিং টেকপথ। ১,৬০০ মিটার উঁচুতে পাহাড়ে ওঠারও সুযোগ রয়েছে।
ক্ষীরগঙ্গা: বিখ্যাত উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য। 
মালানা ভিলেজ: চন্দ্রখানি পাসকে পেছনে ফেলে কিছুটা এগোলেই মালানা ভিলেজ। এখানকার সাংস্কৃতিক পরিবেশে মুগ্ধ না হয়ে থাকাই যায় না। দেখবেন জাম্পু দেবতার মন্দির।
সোজা: কুলুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দু’‌চোখ ভরে দেখতে হলে যেতেই হবে সোজা। বরফাবৃত পাহাড়, উপত্যকা, অরণ্য, নদীর নয়নাভিরাম দৃশ্য এখান থেকে আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। জালোরি পাস থেকে এর দূরত্ব ৫ কিমি।
ঘুরে আসা যায় চন্দ্রখানি পাস থেকেও। 

যাওয়া: মণিকরণ যাওয়ার জন্য কুলু থেকে বাস ছাড়ে। কুলু থেকে দূরত্ব ৪৫ কিমি। ভুন্টারজারি–কাসোল হয়ে মণিকরণ পৌঁছাতে সময় লাগে আড়াই থকে তিন ঘণ্টা। মণিকরণ ঘুরে কুলু ফিরে আসাটাই ভালো।
থাকা: থাকার জন্য কুলুতে রয়েছে হিমাচল প্ৰদেশ পর্যটনের হোটেল সিলভারমুন ও শর্বরী। এ ছাড়াও ভালো মানের বেশ কিছু বেসরকারি হোটেলও আছে।
এস টি ডি কোড: ০১৯০২ 
হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের কলকাতার মার্কেটিং অফিসের ঠিকানা: ২ এইচ, ৩য় তল, ইলেকট্রনিক সেন্টার, ১/১ এ, বিপ্লবী অনুকূলচন্দ্র স্ট্রিট, কলকাতা– ৭০০০৭২। ফোন: (০৩৩) ২২১২–৬৩৬১, ফোন/ফ্যাক্স: (০৩৩) ২২১২–৭৪৭০ ই-মেল: kolkata@hptdc.in
লগ অন করুন: himachaltourism.gov. in এবং h‌tdc.in‌‌

সব ছবি:‌ আন্তর্জাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *